বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পোলাও, খিচুড়ি ও বিরিয়ানি রান্নার কিছু প্রয়োজনীয় সাধারণ তথ্য। Some Common Factors of Pulao, Hotchpotch and Biriyani Cooking Process

 অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি সাধারণ নিয়মাবলী:-

(১) চাল ( Rice):- খিচুড়ি, পোলাও ও বিরিয়ানীর প্রধান উপাদান হ'ল চাল। এগুলি তৈরিতে আতপ ও সেদ্ধ দুইরকম চালই ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা যেন পুরানো, সরু হয় ও ভাঙা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণতঃ, এসবের জন্য দেরাদুন আতপ ও সেদ্ধকেই সেরা বলা হয়। ভাঙা চাল ব্যবহার করলে দলা পাকিয়ে যাবে, ঝরঝরে হবে না। কমপক্ষে আধঘন্টা চাল ভিজিয়ে রাখার পরে রান্না করবেন। এতে ভাতগুলি লম্বা লম্বা হবে। প্রথমে চাল ভালোভাবে ঝেড়ে হাতে বেছে নিতে হবে। তারপর আবার চাল ধুয়ে আঁচে বসিয়ে আধসেদ্ধ করে ফ্যানটা ঝরিয়ে পোলাও, বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস বা খিচুড়ি রান্না করবেন। আবার আপনার ইচ্ছে হলে চাল ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চড়াতে পারেন। অথবা, ধোয়া চাল মুছে নিয়ে একটি পাত্রে রেখে সামান্য ঘি, নুন, চিনি, জাফরান, রঙ প্রভৃতি মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে চেখে দেখে নেবেন নুন-মিষ্টি সমান আছে কিনা! তারপর পরিমাণ মতো আখনি জল মিশিয়ে উনুনের আঁচে বসিয়ে জল মেরে নিয়েও তৈরি করতে পারেন। পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি বা ফ্রায়েড রাইসের সব মশলাগুলি মিহি করে বেটে সামান্য ঘি এবং বাটা মশলা চালে ভালোভাবে মাখিয়েও তাতে পরিমাণ মতো জল দিয়ে রান্না করতে পারেন। এই নিয়মগুলির মধ্যে আপনার সুবিধার নিয়মটি বেছে নেবেন। 

(২) আখনির জল:- এবার আসি আখনির প্রসঙ্গে। পরিমাণ মতো জলে মশলা দিয়ে সেদ্ধ করে এটি তৈরি করা হয়। ঠিকমতো তৈরি করতে না পারলে পোলাও বা বিরিয়ানি খুব সুস্বাদু হয় না। গোলমরিচ, গোটা লঙ্কা, গোটা জিরে, সাদা জিরে, সাদা মরিচ, গরমমশলা, ছোলার ডাল, বাটা আদা, তেজপাতা, কাবাবচিনি, জায়ফল, ধনে, রসুন, পেঁয়াজ, জয়িত্রী ইত্যাদি এক টুকরো পাতলা বা আদ্দির কাপড়ে আলগা করে বেঁধে বিরিয়ানি বা পোলাওতে যতটা পরিমাণ জল লাগবে তার আড়াইগুণ জল ( উদাহরণস্বরূপ - দুই লিটার জল লাগলে পাঁচ লিটার জল দিতে হবে। ) একটি পাত্রে দিয়ে তাতে মশলা বাঁধা পুঁটলি জলে ডুবিয়ে ঢাকা দিয়ে ফোটাবেন। ফুটতে ফুটতে জল যখন অর্ধেক হয়ে লালচে রঙের হবে তখন জল নামিয়ে কিছুক্ষণ পরে জল থেকে মশলার পুঁটলি তুলে চেপে জলটা বের করে তুলে নেবেন। এইভাবেই আখনির জল তৈরি করতে হয়। আবার মাংস-গোস্ত আখনি তৈরি করতে হলে মশলার পুঁটলিতে মাংসের টুকরো দিয়ে উপরের পদ্ধতি অনুসারে ফুটিয়ে চেপে জল বের করে নিতে হবে। এই আখনি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানিতে দিলে খুব সুস্বাদু হয়। যেরকম ইচ্ছা হয় করে নিন। 

(৩) দমে বসানোর প্রক্রিয়া:- পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি করতে হলে দমে বসাতে হয়। এই কারণে পোলাও বা বিরিয়ানি বেশি সেদ্ধ করা চলবে না। প্রায় সেদ্ধ হয়ে যখন অল্প অল্প জল থাকে তখন আঁচ থেকে নামিয়ে দুইপাশে দুটি ইটের উপর পাত্রটি বসিয়ে মুখ বন্ধ করে চারদিকে মাখা ময়দা দিয়ে ভালোভাবে আটকে পাত্রটির ঢাকার উপর জ্বলন্ত কাঠকয়লা এবং ইটের ফাঁকে জ্বলন্ত কাঠকয়লা দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট রাখলেই সুসিদ্ধ হবে আর ঝরঝরেও হবে। ডেকচি বা হাঁড়ির ঢাকনাতে কাঠকয়লা দেবার আগে সামান্য মাটির প্রলেপ লাগিয়ে দিলে ঢাকনিতে দাগ হবে না। যদি ওভেনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে ওভেনে পাত্র বসিয়ে দমে বসানো যায়। তবে, অবশ্যই মনে রাখবেন যে দমে বসানোর সময় কাঠকয়লার আঁচ যেন বেশি না হয়। বেশি হলে রান্না পুড়ে যায়। মোটা ডেকচি বা হাঁড়িতে রান্না করবেন। 

(৪) রঙ:- একটু খোঁজখবর নিয়ে খুব নামকরা ভালো কোম্পানির রঙ ব্যবহার করবেন। যে কোন বড়ো স্টেশনারি দোকানে গিয়ে ওনাদের বললে না থাকলে ওনারা আনিয়ে দেবেন। যদি জাফরান ব্যবহার করতে চান তাহলে হাফ কাপ গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে কিছুক্ষণ ঢাকা রেখে তারপর ব্যবহার করবেন। পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হয়ে যাবার পর ঘাঁটাঘাঁটি করা চলবে না। দমে বসানো হয়ে যাবার পর হাঁড়ি বা ডেকচি কাপড় দিয়ে ধরে ঝাঁকিয়ে নেবেন। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি হয় তাহলে ঝাঁকানোর পরিবর্তে চ্যাপ্টা হাতা দিয়ে উপরের ভাত সরিয়ে তলার মাংসের টুকরো বের করে তারপর পরিবেশন করবেন। 

(৫) জল ও ঘি:- পোলাও বা বিরিয়ানি ভালোভাবে রান্না করতে হলে ১ কিলোগ্রাম চালে ৩০০ গ্রাম খাঁটি ঘি লাগবে। আখনি বা জল যেন কমবেশি না হয়। কি ধরনের চাল তা দেখে নিয়ে জল বা আখনির পরিমাণ ঠিক করে নেবেন। আতপ চালের থেকে সেদ্ধ চালে সামান্য বেশি জল বা আখনি লাগে। মোটামুটি ১ কিলো সেদ্ধ চালে দেড় লিটার জল বা আখনি লাগে। আতপ চাল হলে কিছুটা কম লাগে। জলের পরিমাণ বেশি হলে কাদা মতো হয়ে যাবে। যাতে বেশি ঝরঝরে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আখনির জল কখনও ঠান্ডা ব্যবহার করবেন না। রান্না ভালো করতে গেলে গরম জল ব্যবহার করতে হবে। আঁচে বসিয়ে জল প্রায় শুকিয়ে পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করতে হয়। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে আখনির পুঁটলি ও চাল একসাথে আধসেদ্ধ করে পুঁটলি তুলে জল ঝরিয়ে ডেকচি বা হাঁড়িতে আধসেদ্ধ চাল অন্যান্য উপকরণের সাথে মিলিয়ে ওতে দুধ বা জল অথবা ঘি ছিটিয়ে ১০ - ১৫ মিনিট দমে বসিয়ে রাখবেন। এতে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করেন তাহলে মাংসের টুকরোগুলো বেশ বড়ো সাইজের করে কেটে নেবেন। ১ কিলো চালে মাংসের টুকরো হবে ৮ টা। প্রথমে মাংস রান্না করে ডেকচিতে বা হাঁড়িতে রেখে তার উপর আধসেদ্ধ ভাত দিয়ে মশলা, ঘি ছড়িয়ে দিয়ে দমে বসাবেন। দমে বসাবার সময় সুগন্ধি দ্রব্য, গুঁড়ো মশলা, কিসমিস, বাদাম ইত্যাদি দুধে ভিজিয়ে ওতে ছড়িয়ে দিলে সুগন্ধি পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হবে। 

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মুরগা পোলাও বা মুরগির পোলাও রান্না। Chicken Pulao Cooking Recipe

 উপকরণ:- ১ কে. জি. দেরাদুন চাল, ২ টি বড়ো আকারের মুরগী ও নানাবিধ মশলা। 

সবকিছুর আগে আলাদা আলাদা মশলা গুলি রেডি করে নিন। 

মাংসের মশলা:- ৮ কোয়া রসুন বাটা, ৩ টি পেঁয়াজ বাটা, ২ চামচ আদা বাটা, কয়েকটি তেজপাতা, গরমমশলা গুঁড়ো ও গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চামচ করে, ১ টা জায়ফল গুঁড়ো, হাফ চামচ জয়িত্রী বাটা, হাফ চামচ কাবাবচিনি, ১০০ গ্রাম টকদই, আন্দাজমতো নুন। 

আখনির জলের মশলা:- ১ ইঞ্চি আদা থেঁতো করা, ২ খানি পেঁয়াজ বাটা, ৪ কোয়া রসুন থেঁতো করা, হাফ চামচ জিরে, হাফ চামচ গোলমরিচ, হাফ চামচ ধনে, ১ টা জায়ফল থেঁতো করা, হাফ চামচ জয়িত্রী, ২ টি শুকনো লঙ্কা। 

পোলাওয়ের মশলা:- ৮-১০ গ্রাম গরম মশলা, ১ চামচ নুন, ১ চামচ চিনি, ৫-৬ খানা তেজপাতা, ১৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচি ভাজা, ভালো মানের ঘি ৩০০ গ্রাম, ১৫ থেকে ১৬ টা কাগজি বাদাম কুচানো, ১৫ টা শুকনো আলুবোখারা, হাফ চামচ জাফরান অথবা ৪ ফোঁটা মিষ্টি আতর, কমলা রঙ। 

সাবেকি পদ্ধতিতে তৈরি করুন:-

দুটো মুরগি মোট ১৬ টুকরোতে কেটে নিন। এবার আগে দেওয়া নিয়ম অনুসারে আখনির জল তৈরি করুন। টকদইয়ের সাথে মাংসের বাটা ও গুঁড়ো মশলা দিয়ে ফেটিয়ে মুরগির টুকরোগুলোতে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। একটি কড়াই বা প্যানে ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ঘিয়ে ভেজে দমে বসানোর জন্য আলাদা করে তুলে রাখুন। কড়াইয়ের বাকি গরম ঘিয়ে মাংসের মশলার তেজপাতা, গরমমশলা ও টকদই মাখানো মাংস দিয়ে অল্প কষে ওর মধ্যে হাফ চামচ নুন ও খানিকটা জল দিয়ে মুরগির মাংস অর্ধেক সেদ্ধ করে প্যান বা কড়াইটি উনুনের আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলুন। মাংসে গা-মাখা ঝোল থাকবে। 

এবার দেরাদুন চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। জাফরান অথবা মিষ্টি আতর এবং কমলা রঙ ১ কাপ দুধে মিশিয়ে রাখুন। 

এখন একটি ডেকচি বা হাঁড়িতে ১০০ গ্রাম ঘি দিয়ে গরম হলে ওতে পোলাওয়ের চাল, গরমমশলা, তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিয়ে আখনির জল ঢালুন। আন্দাজ পরিমাণ মতো চিনি ও নুন দিয়ে ফোটান। চালের ফ্যান মরে থকথকে হয়ে গেলে ওর মধ্যে বাদাম কুচানো দিয়ে নামাবেন। এবার তুলে রাখা আধ সেদ্ধ করা মাংস, পেঁয়াজ ভাজা ভাতের সাথে মিশিয়ে দিন। বাকি ১০০ গ্রাম ঘি আর দুধ, জাফরান রঙের মিশ্রণ উপরে ছড়িয়ে দিন। হাঁড়ির মুখে ঢাকনা দিয়ে ময়দা মাখার সাহায্যে সমস্ত ফাঁক বন্ধ করে ২০-২৫ মিনিট দমে বসিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় ২ টি আলুবোখারা প্রত্যেকটি ডিশে দিয়ে সাবধানে মাংস বের করে একখন্ড করে দিয়ে পরিবেশন করুন। 

মুরগা পোলাও তৈরির সহজ পদ্ধতি:- যারা সহজভাবে রান্না করতে চান এটা তাদের জন্য। তারা প্রথমেই মাংস রান্না করে মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ করে নেবেন। বেশি জলে তেজপাতা ও গরমমশলা দিয়ে, আখনির মশলা একটি কাপড়ে বেঁধে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। এরপর চাল, বাদাম দিয়ে ২-৪ মিনিট ফুটিয়ে দেখে নিন ভাত আধসেদ্ধ হয়ে ফ্যান আছে কিনা। যদি ভাত আধসেদ্ধ হয়ে ফ্যান না থাকে তাহলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে আখনির পুঁটলি তুলে যতটুকু ফ্যান থাকবে তা ঝরিয়ে নিন। এবার হাতার সাহায্যে ভাত তুলে রান্না মাংসের ডেকচিতে দিয়ে তার উপর ২০০ গ্রাম ঘি অল্প অল্প করে মেশাতে থাকুন। মাঝে মাঝে ভাজা পেঁয়াজ, আলুবোখারা ও দুধ-রঙ-জাফরানের মিশ্রণ ছড়িয়ে, সামান্য জল ছিটিয়ে ১০ মিনিট ঢিমা আঁচে বসান। পুরোপুরি খাবার জন্য তৈরি হয়ে যাবে। 

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বুরহানি সরবত কিভাবে তৈরি করবেন? Burhani Drink Recipe

 বুরানী বা বুরহানি তৈরির উপকরণ:- ২৫০ গ্রাম টকদই, ১ চামচ বিটনুন গুঁড়ো, দেড় চামচ পুদিনাপাতা বাটা, ১ চামচ ধনেপাতা বাটা, হাফ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, হাফ চামচ জিরে ভাজা, ১ চামচ ধনেপাতা, জল, কাপ ও বড়ো গ্লাস। 

পদ্ধতি:- গোলমরিচ, ধনে, জিরে একসাথে গুঁড়ো করে নিন। এবার টকদই ভালো করে ফেটিয়ে সব মশলা মিশিয়ে ৬-৭ কাপ জল মেশান। হাফ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিন। তারপর গ্লাসে করে সরবরাহ করুন। পোলাও, বিরিয়ানি বা যেকোন গুরুপাক খাদ্য খাবার পর এই সরবত খেলে সব হজম হয়ে যায়। 

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফুলকপির চিংড়িকোর্মা রন্ধনপ্রণালী। Cauliflower Prawn Korma Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম ফুলকপি, হাফ কে. জি. চিংড়ি মাছ। ৪ টি আলু, ২ টি বড়ো পেঁয়াজ কুচানো, ২ টেবিল চামচ সর্ষে, ৮ - ১০ টা কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো নুন, দেড় চা চামচ চিনি, হাফ চা চামচ হলুদ, ১০ - ১৫ টি কিশমিশ, আধখানা নারকেল, দেড় কাপ সরষের তেল। 

প্রণালী:- সর্বপ্রথম খোসা ছাড়িয়ে চিংড়িগুলো জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার ফুলকপির ডাঁটিগুলো ফেলে দিয়ে ফুলগুলো টুকরো করে কেটে রাখুন। আলু খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিন। নারকেল কুরিয়ে নিন। কিশমিশ ধুয়ে রাখুন। সর্ষে ও পাঁচটি কাঁচা লঙ্কা বেটে রেখে দিন। এখন একটি কড়াইতে তেল গরম করে মাছ ভেজে তুলে নিন। ঐ তেলেই পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে আলাদা করে রাখুন। ফুলকপি ও আলুতে হলুদ মেখে বাকি তেলে ভেজে নিন। ভাজা হলে নারকেল কোরানো দিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করে সর্ষে বাটা দিন। সর্ষে বাটার সাথে অল্প জলও দেবেন। জল ফুটে উঠলে ভাজা চিংড়ি, হলুদ, নুন, মিষ্টি ও কিশমিশ দিন। বাকি কাঁচালঙ্কা সামান্য চিরে দিন। মাখা মাখা জল থাকতেই উপরে ভাজা পেঁয়াজ ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিন। 

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শাক ও মাংসের তরকারি রান্নার পদ্ধতি । Chicken or Mutton Vegetable Curry Recipe

 উপকরণ:- ২০০ গ্রাম মাংসের কিমা, ১০০ গ্রাম পালংশাক, ২০ গ্রাম আদা ও রসুন বাটা, ২ গ্রাম জিরে গুঁড়ো, ২ গ্রাম ধনে গুঁড়ো, ৫ গ্রাম হলুদ গুঁড়ো, ৫ গ্রাম লঙ্কা গুঁড়ো, ৫০ মিলিলিটার সাদা তেল, ২ টি ছোট পেঁয়াজ কুচানো, স্বাদমতো নুন। 

প্রণালী:- কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি প্রথমে ভেজে নিন। বাদামি রঙের হলে সব মশলার গুঁড়ো ও মাংস দিয়ে ভালো করে কষুন। কষানোর পরে সামান্য গরম জল ও নুন দিয়ে দিন। মাংস নরম হয়ে এলে শাক দিন। ২০-২৫ মিনিট ধরে রান্না করুন। শুকনো মতো হয়ে এলে নামান। 

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চিংড়ি দিয়ে কচুর তরকারি। Kachu Chingri Recipe

 উপকরণ:- হাফ কে. জি. মানকচু, ২৫০ গ্রাম কুচো চিংড়ি, ১ আঁটি ধনেপাতা, ১ চা চামচ কালোজিরা, ৪ খানা তেজপাতা, ১ চা চামচ আদাবাটা, ১ চা চামচ ধনেবাটা, ১ চা চামচ জিরেবাটা, ৪ টি কাঁচালঙ্কা, সামান্য চিনি, ১০ মিলিলিটার সরষের তেল, স্বাদমতো নুন। 

তৈরির প্রণালী:- কচুর খোসা মোটা করে ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিয়ে সামান্য নুন জলে সেদ্ধ করুন। জল ঝরিয়ে ভালো করে চটকে নিন। চিংড়িগুলোর খোসা ছাড়িয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে একটি কড়াইতে তেল গরম করে ভেজে আলাদা করে তুলে রাখুন। ঐ কড়াইতেই এবার কালোজিরা ও তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে চটকানো কচু, সব বাটা মশলা, লঙ্কা দিয়ে কষুন। কষা হলে ভাজা চিংড়ি দিয়ে সামান্য জল দিন। এরসাথে নুন ও চিনি দেবেন। কিছুক্ষণ ফোটার পর মাখামাখা ঝোল থাকতে উনুন থেকে নামিয়ে নিন। ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। 

পুরভরা আলু তৈরির রেসিপি। Purbhara Alur Recipe

 উপকরণ ও পদ্ধতি:- এখানে বিভিন্ন ধরনের আলুর পুরের পদ্ধতি দেওয়া হ'ল। 

প্রথমে আলুর গায়ে কাঁটা দিয়ে ফুটো করে নিন। ডিনার প্লেট বা বড়ো থালায় সাজিয়ে নিন। কিছুক্ষণ বেক করুন। একটি পরিষ্কার তোয়ালেতে মুড়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার যেকোন ধরনের পুর তৈরি করুন। যেমনঃ-

(১) কটেজ চিজ ও চিংড়ি দিয়ে পুর:- ২২৫ গ্রাম কটেজ চিজ, ১ টেবিল চামচ কুচানো পেঁয়াজকলি, ১০০ গ্রাম ছাড়ানো সেদ্ধ করা ছোট চিংড়ি, ১ টেবিল চামচ টক ক্রিম বা ফেটানো টকদই, ১ চা চামচ টমেটো পিউরি, সাজানোর জন্য কয়েক টুকরো শসা ও সেদ্ধ করা গোটা চিংড়ি মাছ। শসা ও গোটা চিংড়ি ছাড়া সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড়ের ও আঙুলের সাহায্যে আলুর মাঝখান থেকে কিছুটা বের করে নিন। যাতে পুর ভরা যায়। এবার প্রতিটি আলুর মাঝের ফাঁকা জায়গাটাতে মেশানো উপকরণগুলি ভরে নিন। আলুর উপরে শসা ও গোটা চিংড়ি সাজিয়ে সার্ভ করুন। 

(২) বেকড্ বিনস ও চিজ দিয়ে পুর:- টমেটো সসে ফেলে রাখা ৪২৫ গ্রাম বেকড্ বিনস, চৌকো করে কাটা ২২৫ গ্রাম চিজ, স্বাদমতো নুন ও মরিচ। 

একটি বড়ো আকারের পাত্রে বেকড্ বিনস ঢালুন। চিজ, মরিচ ও নুন দিয়ে দিন। ওভেনে ১০ মিনিটের মতো রান্না করুন। এবার বের করে রাখুন। আলু মাঝখান দিয়ে কেটে ভিতরটা একটু কুরে নিয়ে বিনের পুর ভরুন ও পরিবেশন করুন। 


গাজর চিঙড়ির তরকারি তৈরি করতে শিখুন। Carrot Prawn Curry Recipe

বানাতে কি কি জিনিস লাগে? 

- ২৫০ গ্রাম চিংড়ি মাছ, বড়ো গাজর ৪ টা, ২ টা বড়ো আকারের আলু, ১০০ গ্রাম বড়ো আকারের টমেটো কুচানো, ৩ খানা পেঁয়াজ কুচানো, আন্দাজমতো সরষের তেল, ১ ইঞ্চি আদাবাটা, ৮ কোয়া রসুন বাটা, ১ চা চামচ চিনি, ১ চা চামচ ঘি, ৪ টি কাঁচা লঙ্কা, সামান্য গরম মশলা গুঁড়ো, নুন স্বাদমতো, হলুদ সামান্য। 

কিভাবে রান্না করবেন? 

- প্রথমে গাজর কুরিয়ে নিন। এর সাথে সাথে চিংড়ির খোসা ছাড়িয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে রাখুন, আলুগুলো ডুমো করে কাটুন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে আলুর টুকরোগুলি লাল করে ভেজে একটি থালায় তুলে রাখুন। এরপর চিংড়ি ভেজে নিন ও ঐ থালার আর এক পাশে রাখুন। তারপর পেঁয়াজকুচি ঐ গরম তেলে লালচে করে ভেজে তার মধ্যে আদাবাটা, টমেটো দিয়ে কষুন। এইবার লঙ্কাবাটা, চিংড়ি, গাজর কোরানো ও ভাজা আলু দিয়ে ঢাকা দিন। ভাপে সেদ্ধ হয়ে যাবে। আলু, গাজর ঠিকঠাকভাবে সেদ্ধ হয়ে এলে সামান্য নুন, চিনি, ঘি, গরম মশলা দিন। সবটুকু সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অল্প অল্প জলের ছিটা দেবেন। ঝরঝরে হলে আঁচ থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করে দিন। 

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কিমা সবজি তরকারি সহজে বানান। Keema Sabji Curry Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম এঁচোড়, বড়ো পেঁয়াজ ২ টা, ৪ টা আলু, [ তেল, তেজপাতা, জিরে, শুকনো লঙ্কা, কাঁচালঙ্কা, আদা, নুন, চিনি ও রসুন আন্দাজমতো পরিমাণে ], ১৫০ গ্রাম মাটন কিমা, ১০০ গ্রাম টকদই। 

প্রণালী:- প্রথমে এঁচোড় ভাপিয়ে জল ঝরিয়ে নিন। মাটন কিমা প্রেসারকুকারে সেদ্ধ করুন। এবার কড়াই উনুনের আঁচে চাপিয়ে তেল দিয়ে গরম করে নিন। এই গরম তেলে আলুর টুকরোগুলি ভেজে একটি থালায় তুলে রাখুন। এখন ঐ তেলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও জিরে ফোড়ন দিয়ে মাংসের কিমা ও কাঠালের এঁচোড় ছেড়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। এরপরে এতে জিরে, আদা, রসুন, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, টকদই, চিনি ও নুন দিয়ে ভাজা ভাজা করে কষুন। ভালোভাবে কষানো হলে আন্দাজমতো জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। পুরো সেদ্ধ হয়ে গেলে গরম মশলা ছড়িয়ে উনুন থেকে নামিয়ে নিন। 

কাঁচামুগের ঠান্ডা ডাল তৈরির পদ্ধতি। Thanda Mug Daler Recipe

 উপকরণ:- ১২৫ গ্রাম কাঁচামুগ ডাল, গোল গোল করে কাটা ১ টা ঝিঙে, বড়ো বড়ো চৌকো করে কাটা ১ ফালি লাউ, স্লাইস করে কাটা ২-৩ টা উচ্ছে, ১ মুঠো থোর কাটা, ২ টা সজনে ডাঁটা, ৩ টেবিল চামচ নারকেল কোরানো, আন্দাজমতো নুন, ১ টেবিল চামচ আদাবাটা, ২ টেবিল চামচ চিনি, আন্দাজমতো গাওয়া ঘি, অল্প পরিমাণে সরষে। 

পদ্ধতি:- প্রথমে একটি কড়াইতে নুন দিয়ে পরিমাণমতো জলে ডাল সেদ্ধ করুন। ফুটে উঠলে সবজিগুলো দিন। ডাল ও সবজি সেদ্ধ হয়ে গেলে নারকেল কোরানো, আদাবাটা ও চিনি দিন। অন্য একটি পাত্রে ঘি গরম করে সরষে ফোড়ন দিন। ফোড়ন দেওয়া এই ঘি নামাবার আগে ডালে ঢালুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে ডাল বেশ ঘন হবে। তখন পরিবেশন করুন। 


বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ছোলার ডাল কিভাবে রান্না করবেন? Cholar Dal Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম ছোলার ডাল, ৫০ গ্রাম আদাবাটা, ২ টেবিল চামচ হলুদগুঁড়ো, ২ টেবিল চামচ লঙ্কার গুঁড়ো, ১ টেবিল চামচ জিরে গুঁড়ো, অর্ধেক নারকেল কোরানো, মাঝারি সাইজের ২ টা টমেটো টুকরো করে কাটা, ৫০ গ্রাম কিশমিশ, নুন ও চিনি আন্দাজ মতো, কয়েকটি তেজপাতা, ভাজার জন্য সাদা তেল আন্দাজ মতো। 

প্রণালি:- ডাল ভালো করে ধুয়ে পরিমাণ মতন জল দিয়ে প্রেশার কুকারে সেদ্ধ করে নিন। লক্ষ্য রাখবেন যেন গলে না যায়। একটি কড়াইতে তেল গরম করুন। এই গরম তেলে তেজপাতা, টমেটো ও অন্য সব মশলা দিয়ে কষে নিয়ে সেদ্ধ ডাল ছেড়ে দিন। এইবার নুন, চিনি ও কিশমিশ দিয়ে কিছুক্ষণ ফোটান। এই ফোটানোর সময় অনবরত নাড়তে থাকবেন। নাহলে, কড়াইয়ের তলা ধরে যেতে পারে। বেশ থকথকে হয়ে এলে উনুন থেকে নামিয়ে নারকেলকোরা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে পারেন। 

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অড়হড় ডাল সহজেই বানান। Arahar Dal Recipe

 উপকরণ:- ১০০ গ্রাম অড়হড় ডাল, হাফ কাপ ভাইটাল গ্রানিউল, ২ টা শুকনো লঙ্কা, ২ টি কাঁচালঙ্কা, ২ খানা টমেটো, জিরে হলুদের গুঁড়ো কিছুটা করে, খুব অল্প হিং, আন্দাজ মতো নুন - চিনি - ভাইটাল তেল, ১ চামচ ঘি। 

প্রণালি:- প্রথমে ডাল সেদ্ধ করে নিন। অন্য একটি পাত্রে গরম জল দিয়ে গ্র্যানিউলগুলো ভিজিয়ে রাখুন। কড়াইতে সামান্য তেল গরম করে হিং, জিরে ও শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। এরপরে এতে আগে থেকে সেদ্ধ করা ডাল ঢেলে দিন। গ্র্যানিউলগুলো জল থেকে তুলে নিয়ে চেপে জল বের করে ডালের মধ্যে ছাড়ুন। ডাল ভালো করে ফুটলে সামান্য নুন ও চিনি দেবেন। নামিয়ে নেওয়ার আগে টমেটো কুচি, কাঁচালঙ্কা, উপরে ছড়িয়ে এবং ঘি ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন। 

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চিংড়ি দিয়ে মুগডাল। Prawn Dal Recipe

 উপকরণ:- ১ কাপ মুগডাল, খোসা ছাড়ানো মাঝারি মাপের চিংড়ি ১ কাপ পরিমাণে, মাঝারি আকারের ২ টা পেঁয়াজ কুচানো, থেঁতো করা ৪ কোয়া রসুন, ৬-৮ টা কাঁচালঙ্কা চেরা, ২ চা চামচ আদাবাটা, মাঝারি সাইজের টমেটো ১ টা, ২ টি তেজপাতা, ১ চা চামচ সাদাজিরে, নুন ও তেল আন্দাজ মতো, হলুদগুঁড়ো ও লঙ্কারগুঁড়ো ২ চা চামচ করে, ১ চা চামচ ঘি, ২ টি ছোট এলাচ, ২ টা লবঙ্গ ও তিনটি দারচিনি। 

পদ্ধতি:- মুগডাল ভালো করে ভেজে ধুয়ে প্রথমে সেদ্ধ করে নিন। এরপরে চিংড়ি ধুয়ে নুন, হলুদ মাখিয়ে একটু সময় রেখে কড়াইতে তেল গরম করে চিংড়ি ভেজে তুলে রাখুন। এবার ঐ কড়াইতে দুই টেবিল চামচ তেল গরম করে জিরে, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি দিয়ে লাল করে ভাজুন। তারপর রসুন দিয়ে ঘি, লঙ্কা, হলুদ, আদা ও টমেটো দিয়ে কষুন। মাঝেমধ্যে অল্প জল দেবেন। এখন ভাজা চিংড়ি দিয়ে ডাল ঢেলে দিন। বেশ ভালো করে ফুটে উঠলে কাঁচালঙ্কা দিয়ে নামিয়ে নিন। 

মুসুর ডাল তৈরির পদ্ধতি । Musur Daler Recipe

 কাঁচামাল:- ২০০ গ্রাম মুসুর ডাল, ১টি বড়ো চামচ হলুদবাটা, ১ টেবিল চামচ ধনেবাটা ও আদাবাটা, অর্ধেক নারকেলের খানিকটা কোরানো আর বাদবাকি বাটা, মাঝারি সাইজের পাকা তেঁতুল ১ দলা, ছোট ১ চামচ গোটা জিরা, স্বাদমতো নুন ও চিনি, ফোড়নের জন্য ২ আঁটি কারিপাতা, ৫০ মিলিলিটার সাদা তেল। 

কিভাবে বানাবেন? 

-   নুন দিয়ে ডাল ও হলুদবাটা জলে সেদ্ধ করুন।একটি ডেকচিতে তেল গরম করে গোটা জিরে ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। ধনেবাটা ও আদাবাটা দিয়ে কষুন। এতে আগে থেকে সেদ্ধ করা ডাল মিশিয়ে তেঁতুলগোলা জল, নুন ও চিনি দিয়ে দিন। তারপর ১০ মিনিটের মতো সময় ধরে ফোটান। নারকেল কোরা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন। 

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কিমা ডাল কিভাবে বানাবেন ? Kima Dal Recipe

 উপকরণ:- ২০০ গ্রাম ছোলার ডাল, ২০০ গ্রাম মাংসের কিমা, ৪ টি পেঁয়াজ নিয়ে দুটি কুচিয়ে নিন আর দুটো কুরিয়ে নিন, ৪-৫ কোয়া রসুন বাটা, ২৫ গ্রাম আদা বাটা, ১০০ গ্রাম টকদই, ১-২ টা শুকনো লঙ্কা, সামান্য গরম মশলা, স্বাদমতো নুন, সামান্য চিনি, পরিমাণমতো সরষের তেল, আপনার ইচ্ছেমতো ঘি, ১ টেবিল চামচ ভিনিগার। 

প্রণালী:- বানানোর কিছুক্ষণ আগে থাকতে কিমায় ভিনিগার মিশিয়ে রাখুন। ছোলার ডাল পরিষ্কারভাবে ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিন। এবার কড়াই উনুনের আঁচে বসান। তেল গরম করে অর্ধেক পেঁয়াজকুচি দিয়ে বাদামি করে ভাজুন। এবার আদা-রসুন বাটা, বাকি পেঁয়াজ ও কিমা দিয়ে কয়েক মিনিট ধরে কষতে থাকুন। তারপর টকদই দিয়ে নাড়াচাড়া করে নুন, চিনি দিন। এইবার সেদ্ধ হওয়ার মতন জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। ঠিক পরমুহুর্তেই একটি ফ্রাইপ্যানে ঘি দিয়ে আঁচে বসান। ছোলার ডাল ঘিয়ে দিয়ে উত্তমরূপে ভাজুন। এরপরে আন্দাজমতো জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হয়ে গেলে নামিয়ে নিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে তেজপাতা ফোড়ন দিন। তারপর ডাল ও সেদ্ধ কিমা দিয়ে নাড়তে থাকুন যাতে কড়াইয়ের তলা ধরে না যায়। নামাবার আগে গরমমশলা ও বাকি ঘি দিয়ে ঢাকা দিন ও ঢাকা অবস্থাতেই উনুন থেকে নামিয়ে নিন। 

শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মকাইয়ের ডাল সহজে বানান । Makai Ka Dal Recipe

 উপকরণ:- ২০০ গ্রাম গোটা কড়াইয়ের ডাল, ৫০ গ্রাম রাজমা, ৫-৬ টেবিল চামচ টম্যাটো পিউরি, ১০০ গ্রাম টকদই, ১০০ গ্রাম ফ্রেশ ক্রিম, হাফ চামচ লঙ্কা বাটা, ১ টেবিল চামচ আদা কুচি, ১ চা চামচ রসুন কুচানো, ১ টেবিল চামচ ঘি, আন্দাজ মতো নুন। 

প্রক্রিয়াকরণ:- প্রেশারকুকারে কড়াইয়ের ডাল ও রাজমা ভালো করে সেদ্ধ করুন। কড়াইতে ঘি গরম করে রসুন ও আদা কুচি ভাজতে থাকুন। বেশ কিছুক্ষণ ভাজা হয়ে গেলে নুন ও টমেটো পিউরি দিয়ে দিন। ফুটে উঠলে আগে থেকে সেদ্ধ করা ডাল কড়াইতে ঢেলে দিয়ে ফুটতে দিন। টকদইয়ে লঙ্কাবাটা মিশিয়ে ফেটিয়ে ডালে ঢালুন। নামিয়ে নেবার আগে ক্রিম ঢেলে নামিয়ে নিন। 

বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

লাউ দিয়ে মুসুর ডাল রান্না করুন । Lau Musur Dal Recipe

 উপকরণ:- মুসুরি ডাল ১ কাপ, মাঝারি সাইজের লাউ ১ টা, ২ টা আলু, ১ টা পেঁয়াজ কুচানো, ৫ কোয়া রসুন, আদা বাটা ২ চা চামচ, অল্প গোটা জিরে, অল্প পরিমাণে বাটা গরম মশলা, কয়েকটি তেজপাতা, স্বাদমতো নুন, আন্দাজ মতো হলুদ, পরিমাণ মতো তেল। 

প্রক্রিয়াকরণ:- মাঝারি মাপে লাউ ও আলু কেটে ধুয়ে নিন। ডালও ধুয়ে রাখুন। একটি প্রেশারকুকারে তেল গরম করে গরম মশলা, তেজপাতা ও জিরে ফোড়ন দিন। তার সাথে পেঁয়াজকুচিও দিয়ে দেবেন। সমস্ত বাটা মশলা, ডাল, লাউ ও আলু দিয়ে ভালো করে কষুন। এরপরে নুন ও হলুদ দিন। হাফ লিটারের মতো জল দিয়ে কুকারের মুখ বন্ধ করে দিন। ২-৩ টি সিটির পরে নামিয়ে নিন। দেখবেন বেশ মাখা মাখা হয়েছে। এই লাউ মুসুরি ডাল গরম অবস্থায় খেতে বেশি ভালো লাগে। 

বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঘরেই তৈরি করুন ডাল মাখানি। How to Cook Dal Makhani at Home Kitchen Easily?

 দুইবার সাঁতলানোসহ উপকরণ:- কড়াইয়ের ডাল ১২০ গ্রাম, ৩০ গ্রাম রাজমা, স্বাদমতো নুন, ১০০ গ্রাম মাখন, ৭৫ মিলিলিটার ক্রিম, প্রথমবার সাঁতলানোর জন্য লাগবে - [ ১২৫ গ্রাম ঘি, ২ টা পেঁয়াজ কুচানো, ১ ইঞ্চি আদা কুচানো, ৫ খানা কাঁচালঙ্কা কুচানো, ১২৫ গ্রাম টমেটো কুচি, ২ টেবিল চামচ শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো। ], দ্বিতীয়বার সাঁতলানোর জন্য লাগবে - [ ২৫ গ্রাম ঘি, ১ টেবিল চামচ দারচিনি, অর্ধেক রসুন কুচানো, ১ চিমটি হিং, ২ চা চামচ কসুরি মেথি। ]

সহজ পদ্ধতি:- যেদিন সকালে বানাবেন তার আগের দিন রাতে শোয়ার আগে দুই ধরনের ডাল একসাথে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে বানানোর শুরুতে দুই লিটার জলে নুন দিয়ে ঐ ডাল সেদ্ধ করে নিন। পুরো সেদ্ধ হয়ে গেলে উনুন থেকে নামিয়ে ডালের কাঁটা দিয়ে ফেটিয়ে নিন। এবার শুরু করুন প্রথমবার সাঁতলানো। কড়াইতে ঘি গরম করে পেঁয়াজ ভেজে আদা ও লঙ্কা ছাড়ুন। ভাজতে ভাজতে সোনালী রঙের হয়ে উঠলে টমেটো কুচি দিয়ে ভালো করে ভেজে নিন। এরপরে এই ভাজা মিশ্রণ পাত্রে রাখা ডালের মধ্যে ঢেলে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিন ও আঁচে বসান। ফুটে উঠলে দেখবেন তেল ভেসে উঠবে। এরপরে নামিয়ে নিন ও একটি বড়ো বাটিতে রাখুন। এইবার দ্বিতীয়বার সাঁতলানোর জন্য রাখা ঘি গরম করে তাতে প্রথমে দারচিনি ছাড়ুন। পরের মুহুর্তে ধীরে ধীরে রসুন দিয়ে বাদামি করে ভেজে পুরো ডালটা ঢেলে দিন। কসুরি মেথি ও হিং দিয়ে নামিয়ে নিন। মাখন ও ক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন। 

কড়াইশুঁটির কচুরি কিভাবে বানাবেন । Karaishuntir Kochuri Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম কড়াইশুঁটি, অল্প হিং, হাফ চামচ নুন, ৩ চামচ মৌরি গুঁড়ো, সিকি চামচ গরম মশলা, ২-৩ টা শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো, গোলমরিচ ও জিরের গুঁড়ো হাফ চামচ করে, ২ চামচ চিনি, ৬-৭ চামচ তেল, ৪০০ গ্রাম ময়দা, ময়ান ও ভাজার জন্য ঘি বা বনস্পতি ৩০০ গ্রাম। 

পদ্ধতি:- প্রথমে ২ চামচ জলে হিং ভিজিয়ে রাখুন। একটি পাত্রে ময়দা নিয়ে তাতে ৩-৪ চামচ ঘি, নুন ও জল দিয়ে শক্ত করে মেখে রাখুন। এবার কড়াইশুঁটির দানা বেটে একটি কড়াইতে ৬-৭ চামচ তেল গরম করে তারমধ্যে দানাবাটা দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। কিছুটা শুকনো মতো হয়ে এলে আঁচ থেকে নামিয়ে হিংয়ের জল, মশলা গুঁড়ো, নুন ও চিনি ছড়িয়ে ভালোভাবে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে থালায় ঢেলে ঠান্ডা করে নিন। তারপর মাখা ময়দা থেকে লেচি কাটুন। গোল করে নিয়ে বুড়ো আঙুল দিয়ে চেপে ঠুলি তৈরি করে ভিতরে কড়াইশুঁটির পুর দিয়ে মুখ বন্ধ করে ময়দার গুঁড়ো দিয়ে গোল করে লুচির মতো করে বেলুন। বেলার সময় দেখবেন যেন ফেটে না যায়। এবার কড়াইতে বেশি করে ঘি বা বনস্পতি গরম করে একটি করে উলটে-পালটে ভেজে নিন। আপনাদের পছন্দসই আমিষ বা নিরামিষ তরকারির সাথে পরিবেশন করুন। 

মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খাস্তা কচুরি কিভাবে বানাবেন?। Khasta Kachuri Recipe

 উপকরণ:- ২৫০ গ্রাম ময়দা, ১০০ গ্রাম কলাইয়ের ডাল, হাফ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, ১ চামচ মৌরি গুঁড়ো, ২ টি শুকনো লঙ্কা গরম করে গুঁড়ো করে নেবেন, সিকি চামচ গরম মশলা গুঁড়ো, অল্প হিং, খাবার সোডা ও নুন অল্প করে, প্রয়োজনীয় পরিমাণে ঘি বা বনস্পতি, সিকি চামচ চিনি। 

বানানোর পদ্ধতি:- যখন তৈরি করবেন তার কমপক্ষে ৩ ঘন্টা আগে একটি বাটিতে ১০০ গ্রাম কলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে রাখুন। বানানোর শুরুতে ভেজানো ডালের খোসা তুলে নিয়ে ভালো করে বেটে নিন। ১ চামচ জলে হিং-টা গুলে নিন। এইবার ময়দায় খাবার সোডা ও নুন মিশিয়ে ২-৩ বার চেলে নিন। চালা ময়দায় ৫০ গ্রাম ঘি বা বনস্পতি ময়ান দিয়ে আন্দাজ মতো জল দিন। তারপর ঠেসে ঠেসে মাখুন। এরপরে একটি কড়াইতে ২-৩ চামচ ঘি বা বনস্পতি গরম করে ওতে ডালবাটা প্রথমে দিয়ে অল্পক্ষণ নেড়ে নিন ও তার মধ্যে গুঁড়ো মশলা, নুন ও চিনি দিয়ে কিছুটা সময় নেড়েচেড়ে নামান। এতে এখন হিংয়ের জল মেশান। এবার মাখা ময়দা থেকে লেচি কেটে বুড়ো আঙুল দিয়ে চেপে ঠুলি করে ডালের পুর দিয়ে লেচির মুখ বন্ধ করুন। গোল করে নিয়ে দুই হাত দিয়ে চ্যাপ্টা করে উনুনের নরম আঁচে ছাঁকা ঘিয়ে বাদামি করে একটা একটা করে ভেজে নিন। পরিশেষে পছন্দের আমিষ বা নিরামিষ তরকারির সাথে নিজে খান অথবা অন্যকে খাওয়ান। 

রুটি বা চাপাটি তৈরি করুন। Chapati or Roti Making

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম আটা, হাফ চামচ নুন, কিছুটা মাখন। 

প্রণালী:- আটায় নুন ও পরিমাণ মতো জল দিয়ে নরম করে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঠেসে ঠেসে মাখুন। মাখা আটা ১ ঘন্টা রেখে দিন। এইবার লেচি কেটে আটার গুঁড়ো দিয়ে পাতলা ভাবে গোল করে বেলে চাটুতে সেঁকে আগুনে ফেলে ফুলিয়ে নিন। তারপর গুঁড়ো ঝেড়ে মাখন লাগিয়ে গরমাগরম পরিবেশন করুন।