শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২০

যুঁই ও বেল ফুলের পোলাও রন্ধন প্রণালী। Jasmine and Bell Flowers Polao Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম বাসমতি চাল, ১৫০ গ্রাম চিনি, ১০০ গ্রাম ঘি, গরমমশলার প্রতিটি অংশ ৫ টি করে, ৫০ গ্রাম কিসমিস, ১০ টি কাগজি বাদাম, হাফ চামচ জাফরান বা কমলা রঙ, ৫-৬ চামচ দুধ, ১ কাপ যুঁই ও বেল ফুল। 

পদ্ধতি:- টাটকা ও ফুটন্ত ফুল ঠান্ডা জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। ২ কাপ গরম জলে পুরোটা চিনি গুলে ছেঁকে নিন। বাদাম কুচিয়ে রাখুন। জাফরান বা কমলা রঙ দুধে গুলে নিন। চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। এইবার বেশি পরিমাণে জল গরম করে ওতে চাল ফোটান। খেয়াল রাখবেন চাল আধসেদ্ধ হয়েছে কিনা। আধসেদ্ধ হলে ফ্যান ঝরিয়ে আবার ঠান্ডা জল ঢেলে আবার জল ঝরিয়ে রাখুন। আর একটি পাত্রে ঘি গরম করে তেজপাতা, গরমমশলা ছেড়ে নেড়ে নিয়ে তাতে ভাত দিন। ওর সাথে চিনি গোলা দিয়ে সাবধানে নেড়ে নরম আঁচে ফোটান। থকথকে মতো হলে তাতে কিসমিস, বাদাম কুচানো, জাফরান বা রঙগোলা দুধ দিয়ে নামান। ওতে যুঁই ও বেলফুল ছড়িয়ে পাত্রের মুখে ঢাকা দিয়ে ময়দা মাখা দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করে ১০ মিনিট দমে বসালেই এই বিশেষ পোলাও পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাবে। 

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২০

কড়াইশুঁটি ও মাংসের কিমা দিয়ে ঘি ভাত। Ghee Rice Recipe With Pea Seeds and Mutton or Chicken Keema

উপকরণ:- হাফ কিলো দেরাদুন চাল, ৫০০ গ্রাম মুরগি অথবা খাসির মাংসের কিমা, দেড় কাপ কড়াইশুঁটির দানা, ১৫০-১৭৫ গ্রাম ঘি। 

কিমার মশলা:- ১০০ গ্রাম টকদই, গরমমশলা, তেজপাতা, ১ টি বড়ো পেঁয়াজ বাটা, ৪-৫ কোয়া রসুন বাটা, হাফ চামচ আদা বাটা, হাফ চামচ জয়িত্রী বাটা, হাফ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, হাফ চামচ চিনি ও স্বাদমতো নুন। 

ভাতের মশলা:- ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচানো ভাজা, ১ চামচ গরমমশলা গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম কিসমিস, পরিমাণ মতো নুন। 

প্রণালী:- মাংস ছোট ছোট টুকরোতে কেটে নিন। দই ফেটিয়ে তার মধ্যে মাংসের মশলা মিশিয়ে দিন। এরপরে ডেকচিতে বা হাঁড়িতে ৫০ গ্রাম ঘি গরম করে ওতে কুচানো পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন। পাত্রের বাকি ঘিতে তেজপাতা, গরমমশলা দিয়ে দই ও মাংসের মশলা মেশানো মাংস চটকে নিয়ে মাংস তুলে নিয়ে ১ কাপ জল দিয়ে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ হয়ে জল টেনে গেলে নামাবেন। একটি পাত্রে বেশি করে জল গরম করে কড়াইশুঁটি, নুন ও তেজপাতা দিয়ে ফোটান। এই সময় চাল ভালো করে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রেডি রাখুন। ওদিকে জল ভালোভাবে ফুটলে ধোয়া চাল দিয়ে প্রায় সেদ্ধ করুন। ভাত প্রায় সেদ্ধ হয়ে এলে ফ্যান ঝরিয়ে রান্না করা মাংস, বাকি ঘি, পেঁয়াজ ভাজা, কিসমিস ও গরমমশলার গুঁড়ো ছড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ১০-১২ মিনিট দমে রাখলেই এই লোভনীয় ঘি ভাত প্রস্তুত। 


বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

মটন বা চিকেন বিরিয়ানি সহজে ঘরেই বানিয়ে খান। Mutton or Chicken Biriyani Easy Recipe

 প্রধান উপকরণ:- ১ কেজি দেরাদুন চাল, ৮-১০ টুকরোতে কাটা দেড় কেজি খাসির মাংস। 

মাংসের জন্য:- ৪-৫ টা পেঁয়াজ বাটা, ৩ চামচ আদা বাটা, ১০ কোয়া রসুন বাটা, ৫ গ্রাম গরমমশলা, তেজপাতা, ১ চামচ গোলমরিচ বাটা, হাফ চামচ জয়িত্রী বাটা, ১ টা জায়ফল গুঁড়ো, ১ চামচ কাবাবচিনি, ২০০ গ্রাম টকদই, পরিমাণমতো নুন। 

আখনির জলের মশলা:- ১ ইঞ্চি আদা থেঁতো, ২ টি পেঁয়াজ বাটা, ৪-৫ কোয়া রসুন থেঁতো করা, হাফ চামচ জিরে, হাফ চামচ গোলমরিচ, হাফ চামচ ধনে গুঁড়ো, ১ টি জায়ফল থেঁতো করা, হাফ চামচ জয়িত্রী, ২-৩ টি শুকনো লঙ্কা। 

বিরিয়ানির মশলা:- ১ চামচ চিনি, ১ চামচ নুন, ১০ গ্রাম গরমমশলা, ১৫-২০ টি আলুবোখারা, ২০০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচানো ভাজা, ৩৫০ গ্রাম ঘি, কমলা রঙ, ৪ ফোঁটা মিষ্টি আতর অথবা হাফ চামচ জাফরান। 

তৈরির পদ্ধতি:- আখনির সমস্ত মশলা ন্যাকড়ায় বেঁধে নিন। দই ফেটিয়ে তাতে মাংসের সব বাটা মশলা মিশিয়ে নিন। আতর, জাফরান বা রঙ ১ কাপ দুধে ভিজিয়ে রাখুন। ডেকচি বা হাঁড়ি আঁচে বসিয়ে তাতে অর্ধেকটা ঘি গরম করে বিরিয়ানির জন্য পেঁয়াজ কুচানো বাদামি করে ভেজে তুলে রাখুন। পাত্রের যা বাকি ঘি থাকবে তাতে মাংসের জন্য বাকি মশলা, তেজপাতা, গরমমশলা ও মাখা মাংস ছেড়ে সামান্য কষে নিয়ে হাফ চামচ নুন ও অল্প জল দিয়ে মাংস রান্না করে নিন। মাংস সেদ্ধ হয়ে গেলে ও এককাপ মতো ঝোল থাকতে নামিয়ে রাখুন। অপর একটি পাত্রে বেশী করে জল দিয়ে ওতে আখনির মশলা বাঁধা পুঁটলি রেখে ঢাকা দিয়ে ফোটান। ভালোভাবে সবটুকু ফুটলে পুঁটলি বের করে নিয়ে তাতে তেজপাতা, গরমমশলা, নুন ও চিনি দিয়ে ধোয়া জল ঝরানো চাল ছেড়ে দিন। ২-৪ মিনিট ফুটিয়ে চাল আধসেদ্ধ হয়ে এলে ফ্যান ঝরিয়ে নিন। এইবার এই আধসেদ্ধ ভাত মাংসের ডেকচিতে অর্থাৎ রান্না করা মাংসের উপর অল্প অল্প করে দিয়ে আর ২০০ গ্রাম ঘি অল্প করে ছড়িয়ে মেশান। মাঝে মাঝে পেঁয়াজ ভাজা, আলুবোখারা প্রত্যেক স্তরে ছড়িয়ে দেবেন। এইভাবে সব মেশানো হয়ে গেলে উপরে দুধের সঙ্গে মেশানো জাফরান, রঙ, আতর গোলা একদিকে ঢেলে দিয়ে উপরে সামান্য ঘি ছড়িয়ে জলের ছিটা দিয়ে পাত্রের মুখ ময়দা মাখা দিয়ে আটকে ১০-১৫ মিনিট দমে বসান। তারপর নিয়ম অনুযায়ী পরিবেশন করুন। 

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২০

ঘি ভাত বা সাদা পোলাও বানানোর পদ্ধতি। How to Cook Plain Polao or Ghee Rice?

 উপকরণ:- দেরাদুন সেদ্ধ বা আতপ চাল ১ কিলোগ্রাম, ঘি ২৫০ গ্রাম, কিসমিস ১০০ গ্রাম, গোটা গরমমশলা ১০ গ্রাম, ৫-৬ টা তেজপাতা, ২০-২৫ খানা কাগজি বাদাম কুচানো, ৫০ গ্রাম চিনি, ১৫-১৬ টা আলুবোখারা, একটি জায়ফল, হাফ চামচ জয়িত্রী, ১ চামচ সাদা জিরা, হাফ চামচ সাদা মরিচ, সবকয়টি গোটা মশলা শুকনো খোলায় গরম করে গুঁড়ো করবেন, নুন ১ চামচ। 

প্রণালী:- ডেকচি বা হাঁড়ি উনুনের আঁচে বসিয়ে অর্ধেক ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা, গরমমশলা ছেড়ে নেড়ে নিয়ে ওতে ধোয়া ও জল ঝরানো চাল দিয়ে নাড়াচাড়া করুন। এবার তাতে চিনি আর নুন মেশান। তারপর ওতে দেড় লিটার আন্দাজ গরম জল দিয়ে পাত্রের মুখ ঢাকা দিয়ে ফোটান। জল টেনে থকথকে মতো হলে আঁচ কমিয়ে ঢাকা খুলে দিয়ে একবার খুন্তি দিয়ে নেড়ে দেখে নিন মাড় আছে কিনা। মাড় থাকলে আর একটু ফোটান। আর যদি মাড় না থাকে তাহলে ওতে অবশিষ্ট ঘি, কিসমিস, বাদাম ও সব গুঁড়ো মশলা মিশিয়ে দিয়ে দমে বসানোর নিয়ম অনুযায়ী ২০-২৫ মিনিট দমে রেখে ঝাঁকিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন। 

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

কমলা পোলাও রেসিপি। Orange or Kamala Polao Recipe

 উপকরণ:- হাফ কিলো বাসমতি চাল, ৫ টি কমলালেবু, ১৫০ গ্রাম চিনি, গরমমশলার প্রতিটি উপাদান ৫ টি করে, ৫০ গ্রাম কিসমিস, ১০-১২ টা কাগজি বাদাম, ১০০ গ্রাম ঘি, জাফরান বা কমলা রঙ হাফ চামচ, ৪-৫ চামচ দুধ। 

প্রণালী:- তিনটি কমলালেবুর খোসা ছাড়িয়ে কোয়াগুলো টুকরো করে রাখুন। দুটি কমলালেবুর রস করে রাখুন। ১ কাপ গরম জলে চিনি গুলে ছেঁকে নিন। কাগজি বাদাম কুচিয়ে রাখুন। জাফরান বা কমলারঙ দুধে গুলে নিন। এবার চাল ভালো করে ধুয়ে একটি পাত্রে পরিমাণ মতো জলে ঐ চাল ফোটান। চাল আধসেদ্ধ হলে নামিয়ে ফ্যান ঝরিয়ে চালে ঠান্ডা জল দিয়ে আবার ভালো করে জল ঝরিয়ে নিন। একটি বড়ো ডেকচিতে ঘি গরম করে তাতে গরমমশলা, তেজপাতা, আধসেদ্ধ ভাত, চিনির জল, কমলালেবুর রস পরপর ধীরে ধীরে মিশিয়ে দিন। এবার নরম আঁচে বসিয়ে ফোটান। থকথকে হয়ে এলে ওতে বাদাম কুচানো, কিসমিস, বাকি কমলালেবুর কোয়া, জাফরান বা কমলারঙ গোলা দুধ ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিন। তারপর পাত্রের মুখে ঢাকা দিয়ে ময়দা লাগিয়ে বন্ধ করে দমে বসিয়ে দিন। দম দেওয়া হয়ে গেলেই আপনার মনপসন্দ কমলা পোলাও রেডি। 

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

জর্দা পোলাও ঘরেই বানিয়ে নিন। Jarda Polao Recipe

 উপকরণ:- হাফ কিলো বাসমতি চাল, ৫০ গ্রাম কিসমিস, ২টি পাতিলেবু, ১ কাপ চিনি, ১৫-১৬ টি কাগজি বাদাম কুচানো, ৫ গ্রাম গরমমশলা, ৩-৪ টি তেজপাতা, ২০ গ্রাম গোটা হলুদ, হাফ চামচ জাফরান, ১০০ গ্রাম ঘি, ২-৩ চামচ গোলাপ জল। 

পদ্ধতি:- জাফরান গুঁড়ো করে গোলাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। ঐ জলে চিনি গুলে কাপড়ে ছেঁকে নিন। হলুদগুলো থেঁতো করে একটি ন্যাকড়ায় বেঁধে ৬-৭ কাপ জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। ফোটানো জলের রঙ হলদেটে হয়ে গেলে পুঁটলিটি তুলে নিন। এবার চাল ভালোভাবে ধুয়ে ঐ হলুদ জলে ফোটান। একটুখানি ফুটে চালের রঙ হলুদ হয়ে এলেই দেখে নিন চাল আধসেদ্ধ হয়েছে কিনা। আধসেদ্ধ হলে নামিয়ে নিয়ে ফ্যান ঝরিয়ে নিন। তারপর ঐ গরম ভাতে পাতিলেবুর রস মেশান। তারপর ৮-১০ কাপ ঠান্ডা জল ওতে দিয়ে ভালোভাবে জল ঝরিয়ে নিন। এবার আর একটি ডেকচিতে ঘি গরম করে সব মশলা আর তেজপাতা দিয়ে তাতে ভাত ও চিনির জল দিয়ে পাত্রের মুখ ঢেকে ঢিমা আঁচে ফোটান। ফুটে থকথকে মতো হলে তার মধ্যে জাফরান গোলা, গোলাপ জল, বাদাম কুচি, কিসমিস দিয়ে মিশিয়ে নিন। জল প্রায় টেনে এলে উনুন থেকে নামিয়ে নিন। পাত্রটির মুখ ঢেকে ময়দা মাখা লাগিয়ে বন্ধ করে ১০-১২ মিনিট দমে বসিয়ে রাখুন। তাহলেই সুস্বাদু জর্দা পোলাও তৈরি। 

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পোলাও, খিচুড়ি ও বিরিয়ানি রান্নার কিছু প্রয়োজনীয় সাধারণ তথ্য। Some Common Factors of Pulao, Hotchpotch and Biriyani Cooking Process

 অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি সাধারণ নিয়মাবলী:-

(১) চাল ( Rice):- খিচুড়ি, পোলাও ও বিরিয়ানীর প্রধান উপাদান হ'ল চাল। এগুলি তৈরিতে আতপ ও সেদ্ধ দুইরকম চালই ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা যেন পুরানো, সরু হয় ও ভাঙা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণতঃ, এসবের জন্য দেরাদুন আতপ ও সেদ্ধকেই সেরা বলা হয়। ভাঙা চাল ব্যবহার করলে দলা পাকিয়ে যাবে, ঝরঝরে হবে না। কমপক্ষে আধঘন্টা চাল ভিজিয়ে রাখার পরে রান্না করবেন। এতে ভাতগুলি লম্বা লম্বা হবে। প্রথমে চাল ভালোভাবে ঝেড়ে হাতে বেছে নিতে হবে। তারপর আবার চাল ধুয়ে আঁচে বসিয়ে আধসেদ্ধ করে ফ্যানটা ঝরিয়ে পোলাও, বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস বা খিচুড়ি রান্না করবেন। আবার আপনার ইচ্ছে হলে চাল ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চড়াতে পারেন। অথবা, ধোয়া চাল মুছে নিয়ে একটি পাত্রে রেখে সামান্য ঘি, নুন, চিনি, জাফরান, রঙ প্রভৃতি মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে চেখে দেখে নেবেন নুন-মিষ্টি সমান আছে কিনা! তারপর পরিমাণ মতো আখনি জল মিশিয়ে উনুনের আঁচে বসিয়ে জল মেরে নিয়েও তৈরি করতে পারেন। পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি বা ফ্রায়েড রাইসের সব মশলাগুলি মিহি করে বেটে সামান্য ঘি এবং বাটা মশলা চালে ভালোভাবে মাখিয়েও তাতে পরিমাণ মতো জল দিয়ে রান্না করতে পারেন। এই নিয়মগুলির মধ্যে আপনার সুবিধার নিয়মটি বেছে নেবেন। 

(২) আখনির জল:- এবার আসি আখনির প্রসঙ্গে। পরিমাণ মতো জলে মশলা দিয়ে সেদ্ধ করে এটি তৈরি করা হয়। ঠিকমতো তৈরি করতে না পারলে পোলাও বা বিরিয়ানি খুব সুস্বাদু হয় না। গোলমরিচ, গোটা লঙ্কা, গোটা জিরে, সাদা জিরে, সাদা মরিচ, গরমমশলা, ছোলার ডাল, বাটা আদা, তেজপাতা, কাবাবচিনি, জায়ফল, ধনে, রসুন, পেঁয়াজ, জয়িত্রী ইত্যাদি এক টুকরো পাতলা বা আদ্দির কাপড়ে আলগা করে বেঁধে বিরিয়ানি বা পোলাওতে যতটা পরিমাণ জল লাগবে তার আড়াইগুণ জল ( উদাহরণস্বরূপ - দুই লিটার জল লাগলে পাঁচ লিটার জল দিতে হবে। ) একটি পাত্রে দিয়ে তাতে মশলা বাঁধা পুঁটলি জলে ডুবিয়ে ঢাকা দিয়ে ফোটাবেন। ফুটতে ফুটতে জল যখন অর্ধেক হয়ে লালচে রঙের হবে তখন জল নামিয়ে কিছুক্ষণ পরে জল থেকে মশলার পুঁটলি তুলে চেপে জলটা বের করে তুলে নেবেন। এইভাবেই আখনির জল তৈরি করতে হয়। আবার মাংস-গোস্ত আখনি তৈরি করতে হলে মশলার পুঁটলিতে মাংসের টুকরো দিয়ে উপরের পদ্ধতি অনুসারে ফুটিয়ে চেপে জল বের করে নিতে হবে। এই আখনি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানিতে দিলে খুব সুস্বাদু হয়। যেরকম ইচ্ছা হয় করে নিন। 

(৩) দমে বসানোর প্রক্রিয়া:- পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি করতে হলে দমে বসাতে হয়। এই কারণে পোলাও বা বিরিয়ানি বেশি সেদ্ধ করা চলবে না। প্রায় সেদ্ধ হয়ে যখন অল্প অল্প জল থাকে তখন আঁচ থেকে নামিয়ে দুইপাশে দুটি ইটের উপর পাত্রটি বসিয়ে মুখ বন্ধ করে চারদিকে মাখা ময়দা দিয়ে ভালোভাবে আটকে পাত্রটির ঢাকার উপর জ্বলন্ত কাঠকয়লা এবং ইটের ফাঁকে জ্বলন্ত কাঠকয়লা দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট রাখলেই সুসিদ্ধ হবে আর ঝরঝরেও হবে। ডেকচি বা হাঁড়ির ঢাকনাতে কাঠকয়লা দেবার আগে সামান্য মাটির প্রলেপ লাগিয়ে দিলে ঢাকনিতে দাগ হবে না। যদি ওভেনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে ওভেনে পাত্র বসিয়ে দমে বসানো যায়। তবে, অবশ্যই মনে রাখবেন যে দমে বসানোর সময় কাঠকয়লার আঁচ যেন বেশি না হয়। বেশি হলে রান্না পুড়ে যায়। মোটা ডেকচি বা হাঁড়িতে রান্না করবেন। 

(৪) রঙ:- একটু খোঁজখবর নিয়ে খুব নামকরা ভালো কোম্পানির রঙ ব্যবহার করবেন। যে কোন বড়ো স্টেশনারি দোকানে গিয়ে ওনাদের বললে না থাকলে ওনারা আনিয়ে দেবেন। যদি জাফরান ব্যবহার করতে চান তাহলে হাফ কাপ গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে কিছুক্ষণ ঢাকা রেখে তারপর ব্যবহার করবেন। পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হয়ে যাবার পর ঘাঁটাঘাঁটি করা চলবে না। দমে বসানো হয়ে যাবার পর হাঁড়ি বা ডেকচি কাপড় দিয়ে ধরে ঝাঁকিয়ে নেবেন। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি হয় তাহলে ঝাঁকানোর পরিবর্তে চ্যাপ্টা হাতা দিয়ে উপরের ভাত সরিয়ে তলার মাংসের টুকরো বের করে তারপর পরিবেশন করবেন। 

(৫) জল ও ঘি:- পোলাও বা বিরিয়ানি ভালোভাবে রান্না করতে হলে ১ কিলোগ্রাম চালে ৩০০ গ্রাম খাঁটি ঘি লাগবে। আখনি বা জল যেন কমবেশি না হয়। কি ধরনের চাল তা দেখে নিয়ে জল বা আখনির পরিমাণ ঠিক করে নেবেন। আতপ চালের থেকে সেদ্ধ চালে সামান্য বেশি জল বা আখনি লাগে। মোটামুটি ১ কিলো সেদ্ধ চালে দেড় লিটার জল বা আখনি লাগে। আতপ চাল হলে কিছুটা কম লাগে। জলের পরিমাণ বেশি হলে কাদা মতো হয়ে যাবে। যাতে বেশি ঝরঝরে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আখনির জল কখনও ঠান্ডা ব্যবহার করবেন না। রান্না ভালো করতে গেলে গরম জল ব্যবহার করতে হবে। আঁচে বসিয়ে জল প্রায় শুকিয়ে পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করতে হয়। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে আখনির পুঁটলি ও চাল একসাথে আধসেদ্ধ করে পুঁটলি তুলে জল ঝরিয়ে ডেকচি বা হাঁড়িতে আধসেদ্ধ চাল অন্যান্য উপকরণের সাথে মিলিয়ে ওতে দুধ বা জল অথবা ঘি ছিটিয়ে ১০ - ১৫ মিনিট দমে বসিয়ে রাখবেন। এতে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করেন তাহলে মাংসের টুকরোগুলো বেশ বড়ো সাইজের করে কেটে নেবেন। ১ কিলো চালে মাংসের টুকরো হবে ৮ টা। প্রথমে মাংস রান্না করে ডেকচিতে বা হাঁড়িতে রেখে তার উপর আধসেদ্ধ ভাত দিয়ে মশলা, ঘি ছড়িয়ে দিয়ে দমে বসাবেন। দমে বসাবার সময় সুগন্ধি দ্রব্য, গুঁড়ো মশলা, কিসমিস, বাদাম ইত্যাদি দুধে ভিজিয়ে ওতে ছড়িয়ে দিলে সুগন্ধি পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হবে।