বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পোলাও, খিচুড়ি ও বিরিয়ানি রান্নার কিছু প্রয়োজনীয় সাধারণ তথ্য। Some Common Factors of Pulao, Hotchpotch and Biriyani Cooking Process

 অতি প্রয়োজনীয় কয়েকটি সাধারণ নিয়মাবলী:-

(১) চাল ( Rice):- খিচুড়ি, পোলাও ও বিরিয়ানীর প্রধান উপাদান হ'ল চাল। এগুলি তৈরিতে আতপ ও সেদ্ধ দুইরকম চালই ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা যেন পুরানো, সরু হয় ও ভাঙা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণতঃ, এসবের জন্য দেরাদুন আতপ ও সেদ্ধকেই সেরা বলা হয়। ভাঙা চাল ব্যবহার করলে দলা পাকিয়ে যাবে, ঝরঝরে হবে না। কমপক্ষে আধঘন্টা চাল ভিজিয়ে রাখার পরে রান্না করবেন। এতে ভাতগুলি লম্বা লম্বা হবে। প্রথমে চাল ভালোভাবে ঝেড়ে হাতে বেছে নিতে হবে। তারপর আবার চাল ধুয়ে আঁচে বসিয়ে আধসেদ্ধ করে ফ্যানটা ঝরিয়ে পোলাও, বিরিয়ানি, ফ্রায়েড রাইস বা খিচুড়ি রান্না করবেন। আবার আপনার ইচ্ছে হলে চাল ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে সঙ্গে সঙ্গে চড়াতে পারেন। অথবা, ধোয়া চাল মুছে নিয়ে একটি পাত্রে রেখে সামান্য ঘি, নুন, চিনি, জাফরান, রঙ প্রভৃতি মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে চেখে দেখে নেবেন নুন-মিষ্টি সমান আছে কিনা! তারপর পরিমাণ মতো আখনি জল মিশিয়ে উনুনের আঁচে বসিয়ে জল মেরে নিয়েও তৈরি করতে পারেন। পোলাও, বিরিয়ানি, খিচুড়ি বা ফ্রায়েড রাইসের সব মশলাগুলি মিহি করে বেটে সামান্য ঘি এবং বাটা মশলা চালে ভালোভাবে মাখিয়েও তাতে পরিমাণ মতো জল দিয়ে রান্না করতে পারেন। এই নিয়মগুলির মধ্যে আপনার সুবিধার নিয়মটি বেছে নেবেন। 

(২) আখনির জল:- এবার আসি আখনির প্রসঙ্গে। পরিমাণ মতো জলে মশলা দিয়ে সেদ্ধ করে এটি তৈরি করা হয়। ঠিকমতো তৈরি করতে না পারলে পোলাও বা বিরিয়ানি খুব সুস্বাদু হয় না। গোলমরিচ, গোটা লঙ্কা, গোটা জিরে, সাদা জিরে, সাদা মরিচ, গরমমশলা, ছোলার ডাল, বাটা আদা, তেজপাতা, কাবাবচিনি, জায়ফল, ধনে, রসুন, পেঁয়াজ, জয়িত্রী ইত্যাদি এক টুকরো পাতলা বা আদ্দির কাপড়ে আলগা করে বেঁধে বিরিয়ানি বা পোলাওতে যতটা পরিমাণ জল লাগবে তার আড়াইগুণ জল ( উদাহরণস্বরূপ - দুই লিটার জল লাগলে পাঁচ লিটার জল দিতে হবে। ) একটি পাত্রে দিয়ে তাতে মশলা বাঁধা পুঁটলি জলে ডুবিয়ে ঢাকা দিয়ে ফোটাবেন। ফুটতে ফুটতে জল যখন অর্ধেক হয়ে লালচে রঙের হবে তখন জল নামিয়ে কিছুক্ষণ পরে জল থেকে মশলার পুঁটলি তুলে চেপে জলটা বের করে তুলে নেবেন। এইভাবেই আখনির জল তৈরি করতে হয়। আবার মাংস-গোস্ত আখনি তৈরি করতে হলে মশলার পুঁটলিতে মাংসের টুকরো দিয়ে উপরের পদ্ধতি অনুসারে ফুটিয়ে চেপে জল বের করে নিতে হবে। এই আখনি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানিতে দিলে খুব সুস্বাদু হয়। যেরকম ইচ্ছা হয় করে নিন। 

(৩) দমে বসানোর প্রক্রিয়া:- পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি করতে হলে দমে বসাতে হয়। এই কারণে পোলাও বা বিরিয়ানি বেশি সেদ্ধ করা চলবে না। প্রায় সেদ্ধ হয়ে যখন অল্প অল্প জল থাকে তখন আঁচ থেকে নামিয়ে দুইপাশে দুটি ইটের উপর পাত্রটি বসিয়ে মুখ বন্ধ করে চারদিকে মাখা ময়দা দিয়ে ভালোভাবে আটকে পাত্রটির ঢাকার উপর জ্বলন্ত কাঠকয়লা এবং ইটের ফাঁকে জ্বলন্ত কাঠকয়লা দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট রাখলেই সুসিদ্ধ হবে আর ঝরঝরেও হবে। ডেকচি বা হাঁড়ির ঢাকনাতে কাঠকয়লা দেবার আগে সামান্য মাটির প্রলেপ লাগিয়ে দিলে ঢাকনিতে দাগ হবে না। যদি ওভেনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে ওভেনে পাত্র বসিয়ে দমে বসানো যায়। তবে, অবশ্যই মনে রাখবেন যে দমে বসানোর সময় কাঠকয়লার আঁচ যেন বেশি না হয়। বেশি হলে রান্না পুড়ে যায়। মোটা ডেকচি বা হাঁড়িতে রান্না করবেন। 

(৪) রঙ:- একটু খোঁজখবর নিয়ে খুব নামকরা ভালো কোম্পানির রঙ ব্যবহার করবেন। যে কোন বড়ো স্টেশনারি দোকানে গিয়ে ওনাদের বললে না থাকলে ওনারা আনিয়ে দেবেন। যদি জাফরান ব্যবহার করতে চান তাহলে হাফ কাপ গরম দুধে জাফরান ভিজিয়ে কিছুক্ষণ ঢাকা রেখে তারপর ব্যবহার করবেন। পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হয়ে যাবার পর ঘাঁটাঘাঁটি করা চলবে না। দমে বসানো হয়ে যাবার পর হাঁড়ি বা ডেকচি কাপড় দিয়ে ধরে ঝাঁকিয়ে নেবেন। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি হয় তাহলে ঝাঁকানোর পরিবর্তে চ্যাপ্টা হাতা দিয়ে উপরের ভাত সরিয়ে তলার মাংসের টুকরো বের করে তারপর পরিবেশন করবেন। 

(৫) জল ও ঘি:- পোলাও বা বিরিয়ানি ভালোভাবে রান্না করতে হলে ১ কিলোগ্রাম চালে ৩০০ গ্রাম খাঁটি ঘি লাগবে। আখনি বা জল যেন কমবেশি না হয়। কি ধরনের চাল তা দেখে নিয়ে জল বা আখনির পরিমাণ ঠিক করে নেবেন। আতপ চালের থেকে সেদ্ধ চালে সামান্য বেশি জল বা আখনি লাগে। মোটামুটি ১ কিলো সেদ্ধ চালে দেড় লিটার জল বা আখনি লাগে। আতপ চাল হলে কিছুটা কম লাগে। জলের পরিমাণ বেশি হলে কাদা মতো হয়ে যাবে। যাতে বেশি ঝরঝরে হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। আখনির জল কখনও ঠান্ডা ব্যবহার করবেন না। রান্না ভালো করতে গেলে গরম জল ব্যবহার করতে হবে। আঁচে বসিয়ে জল প্রায় শুকিয়ে পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করতে হয়। যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে আখনির পুঁটলি ও চাল একসাথে আধসেদ্ধ করে পুঁটলি তুলে জল ঝরিয়ে ডেকচি বা হাঁড়িতে আধসেদ্ধ চাল অন্যান্য উপকরণের সাথে মিলিয়ে ওতে দুধ বা জল অথবা ঘি ছিটিয়ে ১০ - ১৫ মিনিট দমে বসিয়ে রাখবেন। এতে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। যদি মাংসের পোলাও বা বিরিয়ানি রান্না করেন তাহলে মাংসের টুকরোগুলো বেশ বড়ো সাইজের করে কেটে নেবেন। ১ কিলো চালে মাংসের টুকরো হবে ৮ টা। প্রথমে মাংস রান্না করে ডেকচিতে বা হাঁড়িতে রেখে তার উপর আধসেদ্ধ ভাত দিয়ে মশলা, ঘি ছড়িয়ে দিয়ে দমে বসাবেন। দমে বসাবার সময় সুগন্ধি দ্রব্য, গুঁড়ো মশলা, কিসমিস, বাদাম ইত্যাদি দুধে ভিজিয়ে ওতে ছড়িয়ে দিলে সুগন্ধি পোলাও বা বিরিয়ানি তৈরি হবে। 

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মুরগা পোলাও বা মুরগির পোলাও রান্না। Chicken Pulao Cooking Recipe

 উপকরণ:- ১ কে. জি. দেরাদুন চাল, ২ টি বড়ো আকারের মুরগী ও নানাবিধ মশলা। 

সবকিছুর আগে আলাদা আলাদা মশলা গুলি রেডি করে নিন। 

মাংসের মশলা:- ৮ কোয়া রসুন বাটা, ৩ টি পেঁয়াজ বাটা, ২ চামচ আদা বাটা, কয়েকটি তেজপাতা, গরমমশলা গুঁড়ো ও গোলমরিচ গুঁড়ো ১ চামচ করে, ১ টা জায়ফল গুঁড়ো, হাফ চামচ জয়িত্রী বাটা, হাফ চামচ কাবাবচিনি, ১০০ গ্রাম টকদই, আন্দাজমতো নুন। 

আখনির জলের মশলা:- ১ ইঞ্চি আদা থেঁতো করা, ২ খানি পেঁয়াজ বাটা, ৪ কোয়া রসুন থেঁতো করা, হাফ চামচ জিরে, হাফ চামচ গোলমরিচ, হাফ চামচ ধনে, ১ টা জায়ফল থেঁতো করা, হাফ চামচ জয়িত্রী, ২ টি শুকনো লঙ্কা। 

পোলাওয়ের মশলা:- ৮-১০ গ্রাম গরম মশলা, ১ চামচ নুন, ১ চামচ চিনি, ৫-৬ খানা তেজপাতা, ১৫০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচি ভাজা, ভালো মানের ঘি ৩০০ গ্রাম, ১৫ থেকে ১৬ টা কাগজি বাদাম কুচানো, ১৫ টা শুকনো আলুবোখারা, হাফ চামচ জাফরান অথবা ৪ ফোঁটা মিষ্টি আতর, কমলা রঙ। 

সাবেকি পদ্ধতিতে তৈরি করুন:-

দুটো মুরগি মোট ১৬ টুকরোতে কেটে নিন। এবার আগে দেওয়া নিয়ম অনুসারে আখনির জল তৈরি করুন। টকদইয়ের সাথে মাংসের বাটা ও গুঁড়ো মশলা দিয়ে ফেটিয়ে মুরগির টুকরোগুলোতে ভালোভাবে মাখিয়ে নিন। একটি কড়াই বা প্যানে ১০০ গ্রাম পেঁয়াজ কুচি বাদামি করে ঘিয়ে ভেজে দমে বসানোর জন্য আলাদা করে তুলে রাখুন। কড়াইয়ের বাকি গরম ঘিয়ে মাংসের মশলার তেজপাতা, গরমমশলা ও টকদই মাখানো মাংস দিয়ে অল্প কষে ওর মধ্যে হাফ চামচ নুন ও খানিকটা জল দিয়ে মুরগির মাংস অর্ধেক সেদ্ধ করে প্যান বা কড়াইটি উনুনের আঁচ থেকে নামিয়ে ফেলুন। মাংসে গা-মাখা ঝোল থাকবে। 

এবার দেরাদুন চাল ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। জাফরান অথবা মিষ্টি আতর এবং কমলা রঙ ১ কাপ দুধে মিশিয়ে রাখুন। 

এখন একটি ডেকচি বা হাঁড়িতে ১০০ গ্রাম ঘি দিয়ে গরম হলে ওতে পোলাওয়ের চাল, গরমমশলা, তেজপাতা দিয়ে কিছুক্ষণ নেড়ে নিয়ে আখনির জল ঢালুন। আন্দাজ পরিমাণ মতো চিনি ও নুন দিয়ে ফোটান। চালের ফ্যান মরে থকথকে হয়ে গেলে ওর মধ্যে বাদাম কুচানো দিয়ে নামাবেন। এবার তুলে রাখা আধ সেদ্ধ করা মাংস, পেঁয়াজ ভাজা ভাতের সাথে মিশিয়ে দিন। বাকি ১০০ গ্রাম ঘি আর দুধ, জাফরান রঙের মিশ্রণ উপরে ছড়িয়ে দিন। হাঁড়ির মুখে ঢাকনা দিয়ে ময়দা মাখার সাহায্যে সমস্ত ফাঁক বন্ধ করে ২০-২৫ মিনিট দমে বসিয়ে দিন। পরিবেশনের সময় ২ টি আলুবোখারা প্রত্যেকটি ডিশে দিয়ে সাবধানে মাংস বের করে একখন্ড করে দিয়ে পরিবেশন করুন। 

মুরগা পোলাও তৈরির সহজ পদ্ধতি:- যারা সহজভাবে রান্না করতে চান এটা তাদের জন্য। তারা প্রথমেই মাংস রান্না করে মাংস পুরোপুরি সেদ্ধ করে নেবেন। বেশি জলে তেজপাতা ও গরমমশলা দিয়ে, আখনির মশলা একটি কাপড়ে বেঁধে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিন। এরপর চাল, বাদাম দিয়ে ২-৪ মিনিট ফুটিয়ে দেখে নিন ভাত আধসেদ্ধ হয়ে ফ্যান আছে কিনা। যদি ভাত আধসেদ্ধ হয়ে ফ্যান না থাকে তাহলে পাত্রটি আঁচ থেকে নামিয়ে আখনির পুঁটলি তুলে যতটুকু ফ্যান থাকবে তা ঝরিয়ে নিন। এবার হাতার সাহায্যে ভাত তুলে রান্না মাংসের ডেকচিতে দিয়ে তার উপর ২০০ গ্রাম ঘি অল্প অল্প করে মেশাতে থাকুন। মাঝে মাঝে ভাজা পেঁয়াজ, আলুবোখারা ও দুধ-রঙ-জাফরানের মিশ্রণ ছড়িয়ে, সামান্য জল ছিটিয়ে ১০ মিনিট ঢিমা আঁচে বসান। পুরোপুরি খাবার জন্য তৈরি হয়ে যাবে। 

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বুরহানি সরবত কিভাবে তৈরি করবেন? Burhani Drink Recipe

 বুরানী বা বুরহানি তৈরির উপকরণ:- ২৫০ গ্রাম টকদই, ১ চামচ বিটনুন গুঁড়ো, দেড় চামচ পুদিনাপাতা বাটা, ১ চামচ ধনেপাতা বাটা, হাফ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, হাফ চামচ জিরে ভাজা, ১ চামচ ধনেপাতা, জল, কাপ ও বড়ো গ্লাস। 

পদ্ধতি:- গোলমরিচ, ধনে, জিরে একসাথে গুঁড়ো করে নিন। এবার টকদই ভালো করে ফেটিয়ে সব মশলা মিশিয়ে ৬-৭ কাপ জল মেশান। হাফ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে ছেঁকে নিন। তারপর গ্লাসে করে সরবরাহ করুন। পোলাও, বিরিয়ানি বা যেকোন গুরুপাক খাদ্য খাবার পর এই সরবত খেলে সব হজম হয়ে যায়। 

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ফুলকপির চিংড়িকোর্মা রন্ধনপ্রণালী। Cauliflower Prawn Korma Recipe

 উপকরণ:- ৫০০ গ্রাম ফুলকপি, হাফ কে. জি. চিংড়ি মাছ। ৪ টি আলু, ২ টি বড়ো পেঁয়াজ কুচানো, ২ টেবিল চামচ সর্ষে, ৮ - ১০ টা কাঁচালঙ্কা, স্বাদমতো নুন, দেড় চা চামচ চিনি, হাফ চা চামচ হলুদ, ১০ - ১৫ টি কিশমিশ, আধখানা নারকেল, দেড় কাপ সরষের তেল। 

প্রণালী:- সর্বপ্রথম খোসা ছাড়িয়ে চিংড়িগুলো জলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার ফুলকপির ডাঁটিগুলো ফেলে দিয়ে ফুলগুলো টুকরো করে কেটে রাখুন। আলু খোসা ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিন। নারকেল কুরিয়ে নিন। কিশমিশ ধুয়ে রাখুন। সর্ষে ও পাঁচটি কাঁচা লঙ্কা বেটে রেখে দিন। এখন একটি কড়াইতে তেল গরম করে মাছ ভেজে তুলে নিন। ঐ তেলেই পেঁয়াজ বাদামি করে ভেজে আলাদা করে রাখুন। ফুলকপি ও আলুতে হলুদ মেখে বাকি তেলে ভেজে নিন। ভাজা হলে নারকেল কোরানো দিয়ে সামান্য নাড়াচাড়া করে সর্ষে বাটা দিন। সর্ষে বাটার সাথে অল্প জলও দেবেন। জল ফুটে উঠলে ভাজা চিংড়ি, হলুদ, নুন, মিষ্টি ও কিশমিশ দিন। বাকি কাঁচালঙ্কা সামান্য চিরে দিন। মাখা মাখা জল থাকতেই উপরে ভাজা পেঁয়াজ ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিন। 

রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শাক ও মাংসের তরকারি রান্নার পদ্ধতি । Chicken or Mutton Vegetable Curry Recipe

 উপকরণ:- ২০০ গ্রাম মাংসের কিমা, ১০০ গ্রাম পালংশাক, ২০ গ্রাম আদা ও রসুন বাটা, ২ গ্রাম জিরে গুঁড়ো, ২ গ্রাম ধনে গুঁড়ো, ৫ গ্রাম হলুদ গুঁড়ো, ৫ গ্রাম লঙ্কা গুঁড়ো, ৫০ মিলিলিটার সাদা তেল, ২ টি ছোট পেঁয়াজ কুচানো, স্বাদমতো নুন। 

প্রণালী:- কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজকুচি প্রথমে ভেজে নিন। বাদামি রঙের হলে সব মশলার গুঁড়ো ও মাংস দিয়ে ভালো করে কষুন। কষানোর পরে সামান্য গরম জল ও নুন দিয়ে দিন। মাংস নরম হয়ে এলে শাক দিন। ২০-২৫ মিনিট ধরে রান্না করুন। শুকনো মতো হয়ে এলে নামান। 

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

চিংড়ি দিয়ে কচুর তরকারি। Kachu Chingri Recipe

 উপকরণ:- হাফ কে. জি. মানকচু, ২৫০ গ্রাম কুচো চিংড়ি, ১ আঁটি ধনেপাতা, ১ চা চামচ কালোজিরা, ৪ খানা তেজপাতা, ১ চা চামচ আদাবাটা, ১ চা চামচ ধনেবাটা, ১ চা চামচ জিরেবাটা, ৪ টি কাঁচালঙ্কা, সামান্য চিনি, ১০ মিলিলিটার সরষের তেল, স্বাদমতো নুন। 

তৈরির প্রণালী:- কচুর খোসা মোটা করে ছাড়িয়ে ডুমো ডুমো করে কেটে নিয়ে সামান্য নুন জলে সেদ্ধ করুন। জল ঝরিয়ে ভালো করে চটকে নিন। চিংড়িগুলোর খোসা ছাড়িয়ে নুন-হলুদ মাখিয়ে একটি কড়াইতে তেল গরম করে ভেজে আলাদা করে তুলে রাখুন। ঐ কড়াইতেই এবার কালোজিরা ও তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে চটকানো কচু, সব বাটা মশলা, লঙ্কা দিয়ে কষুন। কষা হলে ভাজা চিংড়ি দিয়ে সামান্য জল দিন। এরসাথে নুন ও চিনি দেবেন। কিছুক্ষণ ফোটার পর মাখামাখা ঝোল থাকতে উনুন থেকে নামিয়ে নিন। ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে দিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। 

পুরভরা আলু তৈরির রেসিপি। Purbhara Alur Recipe

 উপকরণ ও পদ্ধতি:- এখানে বিভিন্ন ধরনের আলুর পুরের পদ্ধতি দেওয়া হ'ল। 

প্রথমে আলুর গায়ে কাঁটা দিয়ে ফুটো করে নিন। ডিনার প্লেট বা বড়ো থালায় সাজিয়ে নিন। কিছুক্ষণ বেক করুন। একটি পরিষ্কার তোয়ালেতে মুড়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এবার যেকোন ধরনের পুর তৈরি করুন। যেমনঃ-

(১) কটেজ চিজ ও চিংড়ি দিয়ে পুর:- ২২৫ গ্রাম কটেজ চিজ, ১ টেবিল চামচ কুচানো পেঁয়াজকলি, ১০০ গ্রাম ছাড়ানো সেদ্ধ করা ছোট চিংড়ি, ১ টেবিল চামচ টক ক্রিম বা ফেটানো টকদই, ১ চা চামচ টমেটো পিউরি, সাজানোর জন্য কয়েক টুকরো শসা ও সেদ্ধ করা গোটা চিংড়ি মাছ। শসা ও গোটা চিংড়ি ছাড়া সব উপকরণ একসাথে মিশিয়ে নিন। একটি পরিষ্কার কাপড়ের ও আঙুলের সাহায্যে আলুর মাঝখান থেকে কিছুটা বের করে নিন। যাতে পুর ভরা যায়। এবার প্রতিটি আলুর মাঝের ফাঁকা জায়গাটাতে মেশানো উপকরণগুলি ভরে নিন। আলুর উপরে শসা ও গোটা চিংড়ি সাজিয়ে সার্ভ করুন। 

(২) বেকড্ বিনস ও চিজ দিয়ে পুর:- টমেটো সসে ফেলে রাখা ৪২৫ গ্রাম বেকড্ বিনস, চৌকো করে কাটা ২২৫ গ্রাম চিজ, স্বাদমতো নুন ও মরিচ। 

একটি বড়ো আকারের পাত্রে বেকড্ বিনস ঢালুন। চিজ, মরিচ ও নুন দিয়ে দিন। ওভেনে ১০ মিনিটের মতো রান্না করুন। এবার বের করে রাখুন। আলু মাঝখান দিয়ে কেটে ভিতরটা একটু কুরে নিয়ে বিনের পুর ভরুন ও পরিবেশন করুন।